লোহিত সাগরের তীরবর্তী বন্দরনগরী আল-মাখা এবং কেন্দ্রীয় শহর মারিবের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরা। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার জানিয়েছে, এসব এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, হুথিদের চালানো এসব হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য ইয়েমেনি বাহিনী জানায়নি। তবে এর আগে আল-মাখা শহরে চালানো হামলায় অন্তত সাতজন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছিলেন। এর একদিন পর নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে বন্দর এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ইয়েমেনের দক্ষিণ-মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ শাবওয়ায় হুথিদের ড্রোন হামলায় দুই ইয়েমেনি সেনা নিহত এবং আরও সাতজন আহত হয়েছেন।
একাধিক পোস্টে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা পূর্বাঞ্চলীয় আল-জাওফ প্রদেশ, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশ এবং মধ্যাঞ্চলীয় মারিব প্রদেশের আল-তিবাস এলাকায় হুথি বিদ্রোহী ও তাদের ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাল্টাপাল্টি এসব হামলা ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধকে বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক ও সংঘাতময় পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর পরিস্থিতি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করে এবং ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেন সরকারের পক্ষে হস্তক্ষেপ করে।
এই সংঘাতে লাখ লাখ মানুষ নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি অচলাবস্থায় পৌঁছায়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের এপ্রিলে গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়। এর ফলে দেশজুড়ে বড় ধরনের লড়াইয়ের অবসান ঘটে।
এরপর গত ১৩ জুলাই সানা বিমানবন্দরের রানওয়েতে সৌদি বিমান হামলার মাধ্যমে সহিংসতা পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। ওই সময় হুথিদের একটি প্রতিনিধিদলকে বহনকারী ইরানি বিমান অবতরণ করতে পারেনি।
এই হামলার পর হুথিরা সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের আভা বিমানবন্দরে হামলা চালায় এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ ঘোষণা করে।গোষ্ঠীটি সৌদি জাহাজ ও দেশটির তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে।
এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদাইদাহ এবং লোহিত সাগরে অবস্থিত ইয়েমেনের বৃহত্তম দ্বীপ কামারানে হামলা চালিয়েছে। হুথিদের বিরুদ্ধে স্থল অভিযান চালানোর জন্য তারা ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রে ইয়েমেনি সৈন্যদেরও শক্তিশালী করেছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জাতিসংঘ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা

