টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতকে শিরোপা এনে দেওয়ার নেতৃত্ব দেওয়ার পরও দল থেকে বাদ পড়েন সূর্যকুমার যাদব।নির্বাচক প্যানেল ভিন্ন কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সফরের জন্য শ্রেয়াস আইয়ারকে টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেয়। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিশ্চুপ থাকলেও, অবশেষে মুখে খুলেছেন এই ক্রিকেটার।
সূর্যকুমারের বাদ পড়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল তার ব্যাটিং ফর্ম। বিশেষ করে আইপিএলের শেষ মৌসুমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সে তিনি ছন্দে ছিলেন না। এই ডানহাতি ব্যাটার গত বছরে ভারতের হয়ে কোনো অর্ধশতক (ফিফটি) করতে পারেননি এবং বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে তার একমাত্র উল্লেখযোগ্য ইনিংসটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে।
তবে অধিনায়ক হিসেবে তিনি ছিলেন দুর্দান্ত। তার নেতৃত্বে ভারত কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হারেনি এবং ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ট্রফিও জয় করেছিল। দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ সংযত। তিনি নির্বাচকদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেও বিষয়টি বিবেচনা করেছেন এবং সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে কেন তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভাবা হচ্ছে, তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।
আকাশ চোপড়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সূর্যকুমার যাদব বলেন, দলের তালিকায় নিজের নাম না দেখে আমি হেসেছিলাম। দলে থাকার সময় সবসময়ই একটা চাপ কাজ করত, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সহজ নয়। পরিস্থিতি যখন আমার অনুকূলে ছিল না, তখনও আমি হাসিমুখেই তা গ্রহণ করেছি। আবার এমন সময়ও গেছে যখন আমি দলের জন্য ভালো খেলেছি, তাই আমার কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।
বিশ্বকাপ জয়ের পর আমি আরও দুই বছর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। বিশেষ করে অলিম্পিক এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা মাথায় ছিল। কিন্তু একজনের চিন্তাভাবনা যে অন্যজনের চিন্তার সঙ্গে মিলবেই, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি মনে করি একে অপরের চিন্তাধারাকে সম্মান জানানো জরুরি। তারা আমাকে ছাড়াই এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। এটা তাদের সিদ্ধান্ত ছিল; তারা যদি মনে করে অন্য কারো অধীনে দল ভালো খেলবে, তবে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে সূর্যকুমার স্বীকার করেছেন, দলের ধারাবাহিকতা রক্ষার পরও তাকে বাদ দেওয়ায় তিনি অবাক হয়েছেন।
এই ক্রিকেটার বলেন, আমি শ্রেয়াস আইয়ারকে চিনি। সে একজন ভালো খেলোয়াড়, ভালো মানুষ এবং ভালো অধিনায়ক। তাকে দায়িত্ব দেওয়াতে আমার খারাপ লাগেনি। তবে আমি কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম, কারণ গত দুই বছরে আমি কোনো সিরিজ হারিনি। আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপও জিতেছিলাম। সবকিছু যখন ভালো চলছে, তখন ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক, এমনটাই চাওয়া হয়। এই পরিবর্তনের কারণ বা উদ্দেশ্য কী? বিষয়টি আমাকে বেশ ভাবিয়েছিল এবং আমি দেড় মাস বাড়িতেই ছিলাম।
ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, আমি আমার বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলাম। এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিলাম। আইপিএলটা আমার জন্য ভালো যায়নি। আমি বাড়িতে ছিলাম, সবাই বলছিল ঠিক আছে, এসব জীবনেরই অংশ। কিন্তু যখন সবাই চলে গেল, তখন বাড়িতে আমি একা ছিলাম।
যাদব জানান, দল ঘোষণার তিন দিন আগে নির্বাচক কমিটি তার সঙ্গে কথা বলেছিল। ওই সময় তাকে ইংল্যান্ড সফরের জন্য তাকে বিবেচনা করা হবে না বলে নিশ্চিত করেছিল। তিনি বলেন, দল ঘোষণার আগেই তারা আমাকে ফোন করেছিল। তারা বলেছিল, এখন নতুন কিছুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময়। আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি কারণ আমি কোনো ভুল করিনি। বছরের পর বছর ধরে আমি এভাবেই চলেছি। তারা নিশ্চয়ই ভেবেছিল দলের জন্য এটাই ভালো। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে জানিয়েছিল। এতে কোনো সমস্যা নেই।
সাক্ষাৎকারে শেষ দিকে যাদব বলেন, আমি খেলার জন্য প্রস্তুত, আপনারা যেকোনো সময় আমাকে ডাকতে পারেন। আমি ক্রিকেট খেলছি এবং খেলা চালিয়ে যাব। যখনই আপনারা মনে করবেন সময়টা সঠিক এবং পরিস্থিতি অনুকূল, আমি ফিরে আসার জন্য প্রস্তুত।

