২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কিংবা পাঁচবারের বিশ্বসেরা ব্রাজিল আক্রমণভাগে যতই ধারালো হোক না কেন, তাদের রক্ষণভাগ কিন্তু শতভাগ নিখুঁত ছিল না। গ্রুপ পর্বের কোনো না কোনো ম্যাচে অসাবধানতাবশত গোল হজম করতে হয়েছে আলবিসেলেস্তে ও সেলেসাওদের।
অথচ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল যা করতে ব্যর্থ হয়েছে, বিশ্বমঞ্চের চলতি আসরে সেটাই রূপকথা হিসেবে উপহার দিয়েছে অন্য দুটি পরাশক্তি। গ্রুপ পর্বের লড়াই থেকে শুরু করে নকআউট পর্বের প্রথম ধাপ পার হওয়ার পরও এবারের বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত নিজেদের জালে কোনো গোল জড়াতে দেয়নি স্পেন ও সহ-স্বাগতিক মেক্সিকো। গোল হজমের খাতায় ‘শূন্য’ ধরে রেখে টুর্নামেন্টে এক অনন্য ও রাজকীয় প্রাচীর গড়ে তুলেছে এই দুই দল।
চলতি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত স্পেনের রক্ষণভাগ ছিল এককথায় অনবদ্য। প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র দিয়ে আসর শুরু করলেও পরের ম্যাচগুলোতে নিজেদের রক্ষণকে সুরক্ষিত রেখে মেগা পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন দিদিয়ের দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। সৌদি আরবের বিপক্ষে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয়ের পর গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উরুগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়েছে স্প্যানিশরা। ৩ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে ৫ গোল দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের জাল সম্পূর্ণ অক্ষত রেখে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে তারা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকো ঘরের মাঠের চেনা দর্শকদের সামনে যেন এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর দাঁড় করিয়েছে। আজ মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্তাদিও আসতেকায় শেষ ৩২-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে শক্তিশালী ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে তারা শেষ ১৬-র টিকিট কেটেছে। হুলিয়ান কুইনোনেস এবং রাউল হিমেনেজের গোলে ম্যাচ জেতার পাশাপাশি পুরো ম্যাচে ইকুয়েডরের আক্রমণভাগকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মেক্সিকান ডিফেন্ডাররা। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত মেক্সিকোর গোলরক্ষক রাউল রাঞ্জেলকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়াতে পারেননি প্রতিপক্ষের কোনো স্ট্রাইকার। আসরে প্রতিপক্ষের জালে মোট ৮টি গোল করলেও মেক্সিকোর গোল হজমের খাতা এখনো পুরোপুরি খালি।
রক্ষণভাগের এমন অবিশ্বাস্য দেয়াল তোলার কীর্তি অবশ্য বিশ্বমঞ্চের বাকি ফেবারিটদের নামের পাশে নেই। আর্জেন্টিনা তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩ গোল দিলেও বিপরীতে একটি গোল হজম করে বসে। অন্যদিকে গ্রুপ পর্ব ও রাউন্ড অব ৩২-এর খেলা শেষে ব্রাজিলকে হজম করতে হয়েছে মোট দুটি গোল। এ ছাড়া ফ্রান্স, পর্তুগাল বা ইংল্যান্ডের মতো অপ্রতিরোধ্য দলগুলো ধাপে ধাপে এগোলেও কোনো না কোনো ম্যাচে গোল খেয়ে বসেছে। ফলে রক্ষণভাগের নিখুঁত ইস্পাতকঠিন পারফরম্যান্সে বাকি সবাইকে পেছনে ফেলে স্প্যানিশ ও মেক্সিকান ডিফেন্ডাররাই এখন টুর্নামেন্টের সেরা আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

