পাকিস্তানের সাবেক কারাবন্দি প্রধানমন্ত্রী এবং ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছেন পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রমিজ রাজা। সম্প্রতি একটি ইউটিউব অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় তিনি জানান, জনজীবন থেকে দূরে থাকার এই সময়ে সাবেক এই অধিনায়ক কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন।
‘দ্য ওভারল্যাপ ক্রিকেট’-এর ‘স্টিক টু ক্রিকেট’ অনুষ্ঠানের একটি পর্বে অ্যালিস্টার কুক রমিজ রাজার কাছে ইমরান খান শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন কি না জানতে চান। পাকিস্তানের ২২ জন সাবেক ক্রিকেটার ও অধিনায়ক ইমরান খানের উন্নত চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের কাছে আবেদন জানানোর ঠিক একদিন পরেই এই প্রশ্নটি করা হয়েছিল।
রমিজ রাজা বলেন, তিনি এখন বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। তার অনেক ভক্ত-অনুরাগী রয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তিনি গত তিন বছর ধরে কারাগারে বন্দী। সময়টা তার জন্য বেশ কঠিন।
চোখের সমস্যা মিটে গেছে, জানালেন রাজা
ইমরান খানকে নিয়ে সম্প্রতি স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল, সে বিষয়েও কথা বলেছেন রাজা। তার এই মন্তব্যের প্রায় এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়কের চোখের সমস্যা দেখা দিয়েছিল তবে রাজার মতে, সেই সমস্যা এখন আর নেই।
পিসিবির সাবেক এই চেয়ারম্যান বলেন, মাত্র এক সপ্তাহ আগেই তার চোখে কিছু সমস্যা হয়েছিল, যা এখন সম্ভবত মিটে গেছে। এছাড়া তিনি মানসিকভাবে বেশ শক্ত অবস্থানেই আছেন। আসলে আমরা সবাই জানি, তার মানসিক দৃঢ়তা বা মনোবল অত্যন্ত মজবুত।
বন্দী অবস্থায় পিটিআই প্রধানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্বেগ রয়েছে, রাজার এই মন্তব্যে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। এর মধ্যে সাবেক ২২ জন কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠান।
এদের মধ্যে রয়েছেন সুনীল গাভাস্কার, কপিল দেব, দিলীপ ভেঙ্গসরকার, স্টিভ ওয়াহ, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, নাসের হুসেন, অ্যান্ড্রু স্ট্রস, মাইকেল আথারটন, অ্যালিস্টার কুক, গ্রেগ চ্যাপেল, ইয়ান চ্যাপেল, মাইকেল ব্রিয়ারলি, মাইকেল গ্যাটিং, ডেভিড গাওয়ার, ক্লাইভ লয়েড, অ্যালান বর্ডার, অর্জুনা রানাতুঙ্গা, লি জারমন, কিম হিউজ, বেলিন্ডা ক্লার্ক, অ্যালেক্স ব্ল্যাকওয়েল এবং জন রাইটের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
তাদের এই যৌথ আবেদনে ইমরান খানের প্রতি আচরণ এবং তার যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর আগে আগস্ট মাসে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, খানকে হাসপাতালে স্থানান্তর করে একটি মেডিকেল বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে হবে। এই বোর্ডে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বোন ডা. উজমা খানেরও থাকার কথা ছিল। এছাড়া আদালত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাতের ব্যবস্থাও পুনর্বহাল করেছিল।
তবে হাসপাতালে খানের অবস্থান ছিল মাত্র কয়েক ঘণ্টার। আদালতের নির্দেশিত বোর্ডের পরিবর্তে রাষ্ট্র-নিযুক্ত একটি দল পরীক্ষার পর তাকে সুস্থ বলে জানান। পরে ইমরান খানকে আবারও আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

