গ্রীষ্মের দলবদলে মাঝমাঠ ঢেলে সাজিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। কার্লোস বালেবা, ইউরি টাইলেমান্স ও আন্দ্রে সান্তোসকে এনে সেই জায়গায় শক্তি বাড়িয়েছে তারা। তবে এবার নজরটা আক্রমণভাগে। বেনজামিন শেশকোর ধীরগতির শুরু আর জশুয়া জির্কজির অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ম্যানইউকে নতুন ফরোয়ার্ডের সন্ধানে নামাতে পারে। আর সেই তালিকার শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ ব্রাজিলিয়ান এন্দ্রিক।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ফিচাজেসের দাবি, জানুয়ারির দলবদলে এন্দ্রিককে পেতে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। আক্রমণভাগে কাঙ্ক্ষিত মানের একজন খেলোয়াড় পেতে ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ডকেই সমাধান হিসেবে দেখছে রেড ডেভিলরা।
এন্দ্রিকের ভবিষ্যৎ নিয়ে অবশ্য গুঞ্জন নতুন নয়। ২০ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে ঘিরে শুরু থেকেই ছিল বড় প্রত্যাশা। কিন্তু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এখন পর্যন্ত সবকিছু তার পরিকল্পনামতো এগোয়নি। গত মৌসুমে নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতে তাকে ধারে লিঁওতে পাঠিয়েছিল রিয়াল।
গ্রীষ্মেও এন্দ্রিককে নিয়ে নড়েচড়ে বসেছিল কয়েকটি ক্লাব। আর্সেনাল ও লিভারপুলের সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছিল। তবে ফ্যাব্রিজিও রোমানোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি গ্রীষ্মে রিয়াল তাকে ছাড়ার কথা ভাবেনি। এমনকি লিভারপুলও প্রায় তিন সপ্তাহ আগে এন্দ্রিকের সম্ভাব্য ট্রান্সফার কিংবা লোনের শর্ত জানতে চেয়েছিল। কিন্তু রিয়ালের অবস্থান ছিল পরিষ্কার—তারা তাকে ছাড়তে চায় না।
রিয়ালের পরিকল্পনায় এন্দ্রিককে আরও সময় দেওয়ার কথাই ছিল। তবে নতুন মৌসুমে সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে পরিস্থিতি বদলাতেও পারে। বিশেষ করে নিয়মিত একাদশে জায়গা করে নেওয়ার লড়াইয়ে পিছিয়ে থাকলে জানুয়ারিতে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
ম্যানইউর সম্ভাব্য আগ্রহের সঙ্গে তাই জির্কজির ভবিষ্যৎও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। অ্যাথলেটিকের খবর অনুযায়ী, দলবদলের শেষ দিনে এভারটনের নজরে ছিলেন এই ডাচ ফরোয়ার্ড। ইউনাইটেড যদি তাকে ছেড়ে দিতে পারে, তাহলে আক্রমণভাগে নতুন খেলোয়াড় আনার জন্য জায়গা ও আর্থিক সামর্থ্য—দুটিই কিছুটা বাড়তে পারে।
তবে সবকিছুই নির্ভর করছে রিয়ালের সিদ্ধান্তের ওপর। এই মুহূর্তে এন্দ্রিক মাদ্রিদের পরিকল্পনার বাইরে নন। কিন্তু শীতকালীন দলবদল আসার আগে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে কোচের আস্থা কতটা ধরে রাখতে পারেন, সেটিই হতে পারে বড় প্রশ্ন।

