রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে আবারও মাঠে নেমেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ‘হেক্সা’ মিশন সফল করার দায়িত্ব এবার অভিজ্ঞ কোচ কার্লো আনচেলত্তির কাঁধে। আর সেই দায়িত্বের চাপ যে কতটা, তা তুলে ধরেছেন দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার।
চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে নামা অ্যালিসনের মতে, ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব পালন করা দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেয়েও বেশি চাপের। তিনি বলেন, “সম্ভবত তার অবস্থানে থাকা মানে দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেয়েও বেশি চাপ সামলানো।”
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ইতিহাসও বেশ সমৃদ্ধ। ১৯৩৪ সালের পর থেকে টানা ২০টি উদ্বোধনী ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে সেলেসাওরা। শনিবার দিবাগত রাতে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে তাদের এবারের বিশ্বকাপ অভিযান। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচগুলোর মধ্যে ১৭টিতেই জয় পেয়েছে ব্রাজিল।
তবে অতীতের সাফল্য এখন শুধুই স্মৃতি। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জয়ের মুখ দেখেনি ব্রাজিল। এই সময়ে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে দলটি। বিশেষ করে ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী হার এখনও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে আছে।
তবে অতীত ভুলে নতুন ইতিহাস গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তিনি বলেন, “আমরা এখানে ইতিহাস বদলাতে এসেছি। ব্রাজিলকে আবার সেই জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চাই, যেখানে তাদের থাকার কথা-বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে। আমরা অন্য বড় দলগুলোর সমপর্যায়ে আছি।”
ব্রাজিলের প্রথম প্রতিপক্ষ মরক্কোও এখন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়ে ইতিহাস গড়েছিল তারা। ২০২৩ সালে দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাতে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়েছিল মরক্কো। ফলে এবারও কঠিন লড়াইয়ের আভাস মিলছে।
বর্তমান বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজিলের অবস্থান ষষ্ঠ, আর মরক্কো রয়েছে সপ্তম স্থানে। তাই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ‘আধুনিক ফুটবলে কোনো ছোট দল নেই। মরক্কো খুবই শক্তিশালী এবং তারা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে সক্ষম।’
দীর্ঘ ২৪ বছরের অপেক্ষা, কোটি সমর্থকের প্রত্যাশা আর ইতিহাসের ভার সবকিছু মিলিয়ে ব্রাজিলের হেক্সা মিশনে সবচেয়ে বড় চাপ এখন কার্লো আনচেলত্তির কাঁধেই। সেই চাপ সামলে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিতে পারেন কি না, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

