ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া টুর্নামেন্টগুলোর একটি। নির্বিঘ্নে টুর্নামেন্ট পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ অনেক দিক বিবেচনায় রাখতে হয় বিশ্বকাপের আয়োজক দেশকে। আর আয়োজক যদি হয় যুক্তরাষ্ট্র, তাহলে তো কথা–ই নেই! বিশ্বকাপ চলাকালে দেশটিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের আগমন, সম্ভাব্য অপরাধের আশঙ্কায় তারা কানসাস সিটিতে একটি কারাগার প্রস্তুতের পরিকল্পনা করে।
ওই বন্দীশালা নির্মাণের মূল প্রস্তাবনা এবং পরবর্তী আইন উভয় জায়গায় উল্লেখ করা হয়, ‘আসন্ন বিশ্বকাপের সময় প্রত্যাশিত বিপুল দর্শনার্থীর চাপ শহরের সীমিত পুনর্বাসন ও আটক ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’ যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন সংস্থা ভিজিট কেসির দাবি– বিশ্বকাপ চলাকালে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার দর্শনার্থী কানসাস সিটিতে আসবেন। অ্যারোহেড স্টেডিয়ামে হবে ৬টি ম্যাচ। এর মধ্যে গ্রুপপর্বে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার একটি ম্যাচ রয়েছে।
এ ছাড়া কানসাস সিটিতে রাউন্ড অব থার্টি টু-এর একটি ম্যাচ ও কোয়ার্টার ফাইনালও হবে। আর যদি সমীকরণ মিলে যায়, প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে পারেন মেসি ও পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপজুড়ে কানসাস সিটিতে বিশ্বের তিন পরাশক্তি দেশ বেস ক্যাম্প করবে। আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড এবং নেদারল্যান্ডস। তাদের ম্যাচ ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিশ্বকাপের সময় কানসাস সিটিতে বিপুল দর্শকের আগমনকে রাজনীতিবিদরা বারবার অস্থায়ী জেল তৈরির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
প্রথমে ওই কারাগার সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল, যতদিন না ১৫১ মিলিয়ন ডলারের স্থায়ী জেল নির্মাণ করা হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে কানসারের সহকারী সিটি ম্যানেজার জেফ মার্টিন বলেছিলেন, বিশ্বকাপের আগে এই স্থাপনা চালু করার ‘প্রত্যাশিত সময়সীমা’ পূরণ করতে ডিসেম্বরেই নির্মাণকাজ শুরু করতে হবে। কাউন্সিলম্যান ওয়েস রজার্স বলেন, বিশ্বকাপ আসন্ন, আমরা প্রস্তুত থাকি বা না থাকি। তাই এটি আমাদের তৈরি করতেই হবে। এই মডুলার জেল বিশ্বকাপের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জায়গা দেবে এবং স্থায়ী জেল তৈরি হওয়া পর্যন্ত শহরকে সহায়তা করবে।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের মে মাসে সিটি ম্যানেজার মারিও ভাসকেজ সতর্ক করেছিলেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ‘যেসব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটতে পারে’ সেগুলো সামলাতে কানসাস সিটিকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এজন্য দর্শনার্থীদের অপরাধ বা অসদাচরণ মোকাবিলায় দ্রুত একটি আটক কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণেই স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রকল্পবিরোধী কর্মীরা স্থাপনাটিকে নাম দিয়েছে– ‘বিশ্বকাপ জেল’ নামে।
১০০ আসনের এই জেলটি ১ জুন চালু হওয়ার কথা ছিল, অর্থাৎ আর্জেন্টিনা কানসাস সিটিতে আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামার ১৫ দিন আগে। কিন্তু সেই ‘বিশ্বকাপ জেল’ বিশ্বকাপের আগে চালু হচ্ছে না। যা নিয়ে ব্যাপক বিরোধিতা ছিল আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) আইন-বিরোধী আন্দোলরতদের। আইসিই ব্যবহার করে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে অবৈধ অভিবাসীদের আটক করা হয়।
এদিকে, কাউন্সিলম্যান রজার্স দ্য অ্যাথলেটিককে বলেন, ‘কানসাস দেশের সবচেয়ে বড় শহর যেখানে কোনো জেল নেই এবং আমাদের একটি জেল দরকার। বিশ্বকাপের জন্য যদি মানুষ পাঁচ সপ্তাহ শহরে থাকে, তাহলে বারগুলো ব্যস্ত থাকবে, মদ্যপান বাড়বে। সাধারণ কিছু বিরক্তিকর অপরাধ ঘটতেই পারে। তাই একটি জেল থাকা ভালো। এই জেল মূলত ছোটখাটো অপরাধ ও পৌর আইন ভঙ্গের জন্য ব্যবহার হবে, গুরুতর অপরাধের জন্য নয়। তাই বিশ্বকাপের সময় এটি চালু থাকলে ভালো হতো।’

