নতুন সিনেমার শুটিং করতে নেপালে গিয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে পড়েছেন টালিউডের অভিনেতা খরাজ মুখোপাধ্যায়। বন্যা ও পাহাড়ি ধসে তিব্বত সীমান্তসংলগ্ন রাসুয়া জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় স্ত্রী ও শুটিং ইউনিটের সদস্যদের নিয়ে সেখানে আটকে পড়েছেন তিনি।
গত ২০ আগস্ট ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে নেপালে যান খরাজ মুখোপাধ্যায়। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী প্রতিভা মুখোপাধ্যায় এবং সিনেমাটির শুটিং ইউনিটের অন্য সদস্যরা। রাসুয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় শুটিং চলার সময় হঠাৎ শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। এরপর দ্রুত বাড়তে থাকে নদীর পানি। একপর্যায়ে বন্যার স্রোতে এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও একাধিক সেতু ক্ষতিগ্রস্ত ও ভেসে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিনেমার শুটিংও বন্ধ রাখতে হয়েছে।
যোগাযোগব্যবস্থা ও টেলিযোগাযোগ ব্যাহত হলেও খরাজ ও তার সঙ্গে থাকা সবাই নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। সেখান থেকে মুঠোফোনে খরাজ মুখোপাধ্যায় জানান, ২৬ আগস্ট তাদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভয়াবহ বন্যা ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা আর ফিরতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘২৬ আগস্ট আমাদের কলকাতায় ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ভয়ঙ্কর বন্যা ও রাস্তাঘাট ভেসে যাওয়ায় আটকে পড়েছি। কোনো ফ্লাইটের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে না। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গোরখপুর হয়ে ২৮ আগস্ট দেশে ফেরার চেষ্টা করব।’
একই সিনেমার শুটিংয়ে অংশ নিতে নেপালে গিয়েছিলেন অভিনেতা রজতাভ দত্তও। তবে তার অংশের শুটিং আগে শেষ হওয়ায় দুর্যোগ শুরুর আগেই তিনি নিরাপদে কলকাতায় ফিরে যেতে সক্ষম হন। ‘শিকার’ সিনেমায় বাংলাদেশের চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসও অভিনয় করছেন। দুর্যোগের সময় সিনেমাটির শুটিং ইউনিটের কয়েকজন সদস্য নেপালে থাকলেও সবাই নিরাপদে আছেন বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাসুয়া জেলায় বন্যার ভয়াবহতায় প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে। এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় আপাতত নিরাপদ আশ্রয়েই দিন কাটাচ্ছেন খরাজ মুখোপাধ্যায়, তার স্ত্রী এবং শুটিং ইউনিটের সদস্যরা।

