যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এই ম্যাচে সেলেসাওদের বড় ব্যবধানের জয়ের পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের মাঠে ফেরা।
দীর্ঘ প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের জার্সিতে এই ফরোয়ার্ডের প্রত্যাবর্তন এবং দলের টানা জয়ে যখন সমর্থকরা উল্লাসে ভাসছেন, তখনো তাদের মাটিতে পা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ব্রাজিলের উত্তেজিত ও আশাবাদী সমর্থকদের উদ্দেশে হাস্যোজ্জ্বল মুখে ইতালিয়ান এই কোচের সংক্ষিপ্ত বার্তা ছিল, ‘সবাই শান্ত থাকুন’।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানান, প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর দল এখন দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং একটি দল হিসেবে খেলতে পারছে। তবে দল এখনো পুরোপুরি নিখুঁত নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বল দখলে থাকার সময় খেলার গতি আরও কিছুটা বাড়ানোসহ কিছু জায়গায় এখনো উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। নকআউট পর্বে পৌঁছানোর পর এখন দলগতভাবে শক্তিশালী থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। শেষ বত্রিশের রাউন্ডে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্স-আপ দলের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে নেইমার যখন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন, তখন মিয়ামির গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো সমর্থক তুমুল করতালির মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসা প্রসঙ্গে আনচেলত্তি জানান, চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট হতে নেইমার কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং যোগ্য হিসেবেই তিনি এই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আরও যোগ করেন, নেইমারের এখন ৩৪ বছর বয়স হলেও তার মধ্যে এখনো একজন তরুণ ফুটবলারের মতোই একই আবেগ ও তাড়না বজায় রয়েছে।
এর আগে, প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের জোড়া গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার এক গোলে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের করে নেয় সেলেসাওরা। ম্যাচে চমৎকার খেলে গতি ও ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করা ভিনিসিয়ুসেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন আনচেলত্তি। তিনি জানান, ভিনি যে বিশ্বের অন্যতম সেরা একজন বিশ্বমানের ফুটবলার, তা নিয়ে তার মনে কখনোই কোনো সন্দেহ ছিল না। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে দলের প্রথম লক্ষ্য পূরণ হলেও ম্যানেজার হিসেবে শুধু ভালো খেলা নয়, বরং জয় পাওয়াটাই তার মূল লক্ষ্য বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন আনচেলত্তি।
সূত্র: রয়টার্স

