ঢাকা, সোমবার, মার্চ ২, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আদালতের রায়ে রৌমারী টিএনটি সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: বুলডোজারে গুঁড়িয়ে গেল একাধিক দোকান

প্রানের সংবাদ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম

আদালতের রায়ে রৌমারী টিএনটি সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ: বুলডোজারে গুঁড়িয়ে গেল একাধিক দোকান

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার টিএনটি সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘ দুই যুগের আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে এবং কুড়িগ্রাম জেলা আদালত থেকে আসা প্রতিনিধি দল ও পুলিশের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক দোকানপাট ও স্থাপনা।


দীর্ঘ ২২ বছরের আইনি লড়াই

সূত্রমতে জানা গেছে, টিএনটি সংলগ্ন এই জমিটি নিয়ে সম্রাট, মুঞ্জিল ও কোরিয়াল স্বর্ণকারগং দীর্ঘ ২২ থেকে ২৩ বছর ধরে আদালতে মামলা চালিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন আইনি প্রক্রিয়া ও তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়ের পর আদালত তাদের পক্ষে রায় প্রদান করেন। উচ্চ আদালতের এই রায় বাস্তবায়নের লক্ষে জেলা আদালত থেকে কমিশন গঠন করে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।


উচ্ছেদ অভিযানের চিত্র

শনিবার সকালে কুড়িগ্রাম থেকে আসা একদল পুলিশ এবং আদালতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাটগুলো বুলডোজারের আঘাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।

"আদালতের রায় পাওয়ার পর যথাযথ প্রক্রিয়া মেনেই আমরা আমাদের জমি বুঝে পাচ্ছি। দীর্ঘ সময় ধরে আমরা আমাদের অধিকারের জন্য আইনি লড়াই করেছি, আজ সেই ন্যায়বিচার বাস্তবায়ন হলো।" — দাবিদার পক্ষ (সম্রাট ও মুঞ্জিলগং)


স্থানীয় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসা দোকান মালিকদের দাবি, হঠাৎ করে দোকান ভেঙে দেওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, পুনর্বাসনের সুযোগ না দিয়েই এই অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত মালিকের জমি ফিরে পাওয়াকে অনেকে স্বাগত জানিয়েছেন।


বর্তমান পরিস্থিতি

উচ্ছেদ অভিযানের পর এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আদালতের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত জমি মেপে সীমানা নির্ধারণ করে প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়ার কাজ চলছে।