রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
একটি সাধারণ ভোরের আলো আর দশটা দিনের মতো রৌমারী বাজারের ব্যবসায়ীদের জীবনে স্বাভাবিক বার্তা নিয়ে আসেনি। ভোর ৫:৫০ মিনিটে যখন চারদিক মাত্র জাগতে শুরু করেছে, তখনই রৌমারী শাপলা চত্বর সংলগ্ন ভোলার মোড়ে হানা দেয় এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ড।
মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। চোখের পলকে ছাই হয়ে যায় বহু মানুষের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জমানো পুঁজি আর বেঁচে থাকার অবলম্বন। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত। আগুন লাগার পরপরই চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে আশার কথা এই যে, কর্তিমারী ও রাজিবপুর ফায়ার স্টেশনের ৪টি ইউনিটের দ্রুত এবং সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন আরও বড় বিপর্যয় ঘটানোর আগেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তা না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও ভয়াবহ হতে পারত। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে বাঁচার আকুতি- এই অগ্নিকাণ্ডে বাজারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা দেখলেই বোঝা যায় স্থানীয় অর্থনীতির কতটা বড় ক্ষতি হয়ে গেল: সালমান মেডিকেল হল (ফার্মেসী): প্রোপাইটর মোঃ আব্বাস আলী, আকবর স্টোর: প্রোপাইটর মোঃ আকবর আলী, ফজলু স্টোর: প্রোপাইটর মোঃ ফজলুর রহমান, আমিন ফার্মেসী, রাজা ফার্মেসী,ব্রাদার্স ফার্মেসী এছাড়াও নাম না জানা আরও বেশ কয়েকটি ছোট-বড় দোকান এই আগুনের শিকার হয়েছে। এই দোকানগুলো শুধু ইট-কাঠের কাঠামো ছিল না, এগুলো ছিল একেকটি পরিবারের রুটি-রুজির একমাত্র উৎস। ব্যবসায়ীদের সারা জীবনের উপার্জিত পুঁজি, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ চোখের সামনে ছাই হতে দেখা যে কতটা কষ্টের, তা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ অনুভব করতে পারবে না।
পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধি দুর্যোগের এই কঠিন মুহূর্তে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। ঘটনার পর পরই আজ সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব আলাউদ্দিন। “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের খোঁজখবর নিচ্ছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।” — জনাব আলাউদ্দিন, ইউএনও, রৌমারী। অন্যদিকে, এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন ২৮-কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোস্তাফিজুর রহমান (মোস্তাক)।
তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এই কঠিন বিপদ কাটিয়ে ওঠার জন্য ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন প্রয়োজন দ্রুত পুনর্বাসন অগ্নিকাণ্ড একটি দুর্ঘটনা হতে পারে, কিন্তু দুর্ঘটনার পরের সময়টা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চরম অগ্নিপরীক্ষার। ধার-দেনা বা ব্যাংক লোন নিয়ে যারা ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিলেন, তারা এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা। মহান আল্লাহ তা’আলা তাদের এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার ধৈর্য দান করুন। তবে শুধু সান্ত্বনা বা আশ্বাস নয়, এখন প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ।
উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের উচ্চপর্যায়ের কাছে এলাকাবাসীর আকুল আবেদন—ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করে এই অসহায় ব্যবসায়ীদের যেন দ্রুত আর্থিক অনুদান ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। একই সাথে, রৌমারী বাজারের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় ভবিষ্যতে যেন এমন দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য বৈদ্যুতিক লাইনের নিরাপত্তা ও ফায়ার সেফটি জোরদার করা জরুরি। আমরা আশা করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রৌমারীর ব্যবসায়ীরা আবার তাদের শূন্য থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি খুঁজে পাবেন।

