নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা ইউনিয়নের শিমুলিয়া এলাকায় রেললাইনের পূর্ব পাশে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) সকালে স্থানীয়দের খবরে আত্রাই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল কার্যক্রম শুরু করে।
নিহত ব্যক্তি নিয়ামুল বসির (৪৮) তিনি নওগাঁ সদর উপজেলার রজাকপুর গ্রামের মৃত নজিবর রহমানের ছেলে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, তিনি পেশায় একজন মহিলা কলেজের শিক্ষক ছিলেন, এবং মক্কা হজ কাফেলা নামের একটি এজেন্সির পরিচালক ছিলেন। স্বজনদের ভাষ্যমতে, তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিঁকরা গ্রামে।
স্বজনদের দাবি, প্রতিদিনের মতো গত ১৬ জুন সকালে তিনি বাসা থেকে আত্রাই এলাকায় আসেন। দিনভর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় ভ্যানচালক মো. হলু (৪৫)-এর ভ্যানে চলাফেরা করেন। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আত্রাই রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি চায়ের দোকানে চা পান করে পাশের ফলের দোকানে বসেছিলেন। এরপর তিনি কীভাবে, কখন এবং কোন বাহনে নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা হন—সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। স্থানীয়দের কেউ ট্রেনে, আবার কেউ সিএনজিযোগে যাওয়ার ধারণা করছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের ডান হাতে কাটা-ছেঁড়া এবং মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন, হাতঘড়ি ও নগদ টাকা ছিল সেগুলোর কিছুই নেননি। তবে প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানানো হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
এদিকে, আত্রাই-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ছিনতাই, ডাকাতি ও সহিংস ঘটনার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ২৫ মার্চ ভোরে মহাদিঘী উত্তরপাড়া ভাঙা ব্রিজ এলাকায় কাপড় ব্যবসায়ী মো. শওকত হোসেন (৫০)-কে মারধর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এরপর ১৬ মে দিবাগত রাতে থাঐপাড়ার দক্ষিণ ভাঙাব্রিজ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল প্রায় ৩০টি যানবাহনের যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নেয়।
গত ২৫ মে আমরুলকসবা এলাকায় মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে আল-আমিন হোসেনের কাছ থেকে নগদ ১৬ হাজার ২০০ টাকা ও কাপড় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।একের পর এক এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিক এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যদিও নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম-এর নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান ও টহল জোরদার করেছে, তবুও অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে আত্রাই থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

