রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক গৃহবধূকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাপোড়েনে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ফলুয়ার চর নৌকা ঘাট এলাকায় এই নাটকীয় ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে ওই নারী পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
জানা গেছে, অভিযুক্ত মেহেরুন নেছা চট্টগ্রাম জেলার পটিয়া উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের উত্তর সিলমা গ্রামের সামছুল আলমের মেয়ে। ১৩ মাস আগে চট্টগ্রামে তার প্রথম বিয়ে হয়। প্রথম স্বামীর দাবি অনুযায়ী, দাম্পত্য জীবনে তিনি স্ত্রীকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার উপহার দিয়েছিলেন। তবে সম্প্রতি মেহেরুন নেছা প্রথম স্বামীকে কিছু না জানিয়ে চিলমারী উপজেলার অষ্টিমের চর ইউনিয়নের রবিউলের ছেলে রুবেল মিয়ার সাথে গত এক মাস আগে দ্বিতীয় বিবাহে আবদ্ধ হন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর প্রথম স্বামী জানতে পারেন তার স্ত্রী দ্বিতীয় স্বামী রুবেল মিয়ার সাথে রৌমারীতে অবস্থান করছেন।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ফলুয়ার চর নৌকা ঘাট দিয়ে পার হওয়ার সময় প্রথম স্বামী তাদের পথরোধ করেন। এসময় দুই স্বামীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির উপক্রম হলে স্থানীয়রা ভিড় জমায়।
প্রথম স্বামীর দাবি স্পষ্ট— তিনি স্ত্রীকে আর ফিরে পেতে চান না, তবে তাকে দেওয়া ৩ লক্ষ টাকার স্বর্ণালঙ্কার বা সমপরিমাণ অর্থ ফেরত দিতে হবে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় স্বামী রুবেল মিয়াও মেহেরুনকে নিজের বিবাহিত স্ত্রী হিসেবে দাবি করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়রা রৌমারী থানায় খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মেহেরুন নেছাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
রৌমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাওসার আলী জানান: “ঘটনাটি শোনার পরপরই আমরা মেয়েটিকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়েছি। দুই পক্ষই নিজ নিজ দাবিতে অনড়। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং উভয় পক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
এক নারীর দুই স্বামী এবং মোটা অংকের স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে এই জটিলতায় পুরো রৌমারী এলাকায় মুখরোচক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে ‘প্রতারণা’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ আইনি জটিলতার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার হবে নাকি বিষয়টি আদালতে গড়াবে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে জল্পনা তুঙ্গে।

