বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং সীমান্তে পুশইনের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
রোববার বিকেলে বায়তুল মোকারর জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে দলের ঢাকা মহানগর শাখার উদ্যোগে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি না করে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধের আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পর অল্প সময়ের মধ্যেই তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণ এমনিতেই দিশেহারা। এর ওপর বারবার জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাস খাতে দুর্নীতি, অপচয় ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারে, তাহলে জনগণের ওপর মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানোর প্রয়োজন হবে না। অথচ সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, খুন ও ধর্ষণের মতো ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
মাওলানা জালালুদ্দীন বলেন, ইতিহাস সাক্ষী—জনগণের কণ্ঠস্বর উপেক্ষা করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারেনি। তাই জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের পুশইন ও হয়রানির ঘটনা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার জন্য উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সীমান্ত এলাকার জনগণ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পেশাদারিত্ব প্রশংসার দাবিদার। সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাজীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন- নায়েবে আমির মাওলানা কুরবান আলী কাসেম, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা এনামুল হক মুসা, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবুল হাসানাত জালালী, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা জহিরুল ইসলাম, মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা হাসান জুনাইদ প্রমুখ।
বক্তারা অবিলম্বে তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও দখলবাজি বন্ধ এবং সীমান্তে পুশইন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মুকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

