কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সৌদি আরব। সেই ঐতিহাসিক জয়ের অন্যতম সাক্ষী ছিলেন ডিফেন্ডার সাউদ আব্দুলহামিদ। ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে ফিফা সাথে এক সাক্ষাৎকারে আব্দুলহামিদ জানিয়েছেন, সেই অবিশ্বাস্য রাতটির কথা তিনি বা তার সতীর্থরা কোনোদিন ভুলতে পারবেন না।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কেমন ছিল, তা তুলে ধরেন এই ২৬ বছর বয়সী রাইট-ব্যাক। তিনি বলেন, ‘প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার কয়েকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হওয়ায় কোচ মোটেও খুশি ছিলেন না। তিনি আমাদের বলেছিলেন সর্বোচ্চটা দিয়ে খেলতে। সামনে মেসি ছিলেন, যিনি বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়। আমরা জয় পেতে জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছিলাম এবং শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় জয় এসেছিল।’
সালেম আল দাওসারির জয়সূচক গোলটির পর গ্যালারির অবস্থা বর্ণনা করতে গিয়ে আব্দুলহামিদ বলেন, ‘সেই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। যখন সালেম ব্যবধানটা ২-১ করলেন, মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী আমাদের সমর্থন দিচ্ছে। গ্যালারিতে একজন মানুষও বসে ছিলেন না। আমরা খুশিতে এমনভাবে দৌড়াচ্ছিলাম যে, কোথায় যাচ্ছি তা নিজেরাও জানতাম না।’
বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব রোমা থেকে লোনে ফরাসি ক্লাব লেন্সে খেলছেন আব্দুলহামিদ। চলতি মৌসুমে ৩ গোল ও ৮ অ্যাসিস্ট করে নজর কেড়েছেন তিনি। ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ইউরোপে আমি ডিসিপ্লিন, সঠিক সময়ের ব্যবহার এবং পেশাদারিত্ব শিখেছি। সেখানে এক সেকেন্ডের মনোযোগ হারানো মানেই বড় বিপদ।’
আগামী বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে সৌদি আরবের প্রতিপক্ষ স্পেন, উরুগুয়ে এবং কেপ ভার্দে। নতুন কোচ জর্জিওস ডনিসের অধীনে সৌদির লক্ষ্য ১৯৯৪ সালের পর আবারও নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া। আব্দুলহামিদ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, ‘গ্রুপটি অত্যন্ত কঠিন, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য হলো যতটা সম্ভব সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং নকআউট নিশ্চিত করা।’

