ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, স্বামী বা কোনো রক্তসম্পর্কীয় নিকটাত্মীয় তথা মাহরাম পুরুষ ছাড়া নারীদের হজ বা ওমরাহ পালন জায়েজ নেই। তবে কোনো নারীর ক্ষেত্রে যদি এমন হয় যে, বিমান বা যাত্রাপথে তার সঙ্গে মাহরাম নেই কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর তিনি আবারো মাহরামের সঙ্গে যুক্ত হতে পারবেন, তাহলে এমতাবস্থায় এই সফরে যাওয়া এবং ওমরাহ পালন করা শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ হবে কি না?
এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্রে ফেকাহবিদদের মতামত হলো, কোনো নারীর জন্য স্বামী বা শরীয়ত স্বীকৃত মাহরাম পুরুষ ছাড়া হজ বা ওমরাহর উদ্দেশ্যে সফর করা বৈধ নয়। এমনকি যদি সৌদি আরব বা জেদ্দায় পৌঁছানোর পর স্বামী বা মাহরামের সঙ্গে দেখা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত থাকে, তবুও নিজ দেশ থেকে জেদ্দা পর্যন্ত এই দীর্ঘ পথ একাকী বা পরপুরুষের সঙ্গে পাড়ি দেওয়া নিষিদ্ধ।
সহিহ মুসলিমের একটি হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কোনো নারী যেন মাহরাম ছাড়া তিন দিনের (তথা সফরের দূরত্ব) পথ ভ্রমণ না করে।
মাহরামের বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা এবং মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইঝি, ভাগিনী, দুধ মা, দুধ বোন, শ্বাশুড়ি, তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যার সঙ্গে সঙ্গম হয়েছ তার পূর্ব স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে যারা তোমাদের তত্ত্বাবধানে আছে, কিন্তু যদি তাদের সঙ্গে তোমরা সহবাস না করে থাক, তবে (তাদের বদলে তাদের মেয়েদেরকে বিয়ে করলে) তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই এবং (তোমাদের প্রতি হারাম করা হয়েছে) তোমাদের ঔরসজাত পুত্রের স্ত্রী এবং এক সঙ্গে দু’ বোনকে (বিবাহ বন্ধনে) রাখা, পূর্বে যা হয়ে গেছে, হয়ে গেছে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, দয়ালু।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ২৩)
কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী নারী-পুরুষদের জন্য এমন ব্যক্তি ১৪জন। এই মানুষদের সঙ্গে দেখা দেওয়া জায়েজ, পর্দা ফরজ নয়, তবে এদের বিয়ে করা যাবে না। এখানে তাদের পরিচয় তুলে ধরা হল-
পুরুষের জন্য মাহরাম ১৪ জন।
তারা হলেন- মায়ের সমপর্যায়ের ৫ জন
১. মা
২. ফুফু (বাবার বোন)
৩. খালা (মায়ের বোন)
৪. শাশুড়ি ( স্ত্রী এর মা )
৫. দুধ-মা (যে মা ছোট বেলায় দুধ খাইয়ে ছিলেন)
বোনের সমপর্যায়ের ৫ জন
৬. নিজের বোন
৭. নানি (মায়ের মা)
৮. দাদি (বাবার মা)
৯. নাতনি (আপন ছেলে ও মেয়ের কন্যা)
১০. দুধ-বোন
মেয়ের সমপর্যায়ের ৪ জন
১১. মেয়ে
১২. ভাতিজি (আপন ভাই-এর মেয়ে)
১৩. ভাগ্নি (আপন বোনের মেয়ে)
১৪. ছেলের বউ
এসব ব্যক্তি ছাড়া পুরুষরা বাকি সবার সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। তবে স্ত্রী জীবিত থাকা অবস্থায় স্ত্রীর আপন বোনকে বিয়ে করা যাবে না। আবার তার সঙ্গে দেখাও করা যাবে না।
নারীদের মাহরাম ১৪ জন।
তারা হলেন- বাবার সমপর্যায়ের ৪ জন
১. বাবা
২. চাচা
৩. মামা
৪. শ্বশুর
ভাইয়ের সমপর্যায়ের ৫ জন
৫. সহোদর ভাই
৬. নিজ দাদা
৭. নিজ নানা
৮. নিজ নাতি
৯. দুধ-ভাই
ছেলের সমপর্যায়ের ৫ জন
১০. ছেলে
১১. ভাইয়ের ছেলে
১২. বোনের ছেলে
১৩. মেয়ের জামাই
১৪. দুধ-ছেলে

