বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে নতুনভাবে আলোচনায় উঠে আসছেন তরুণ শিল্পী ইরফান রহমান। ভয়েস-ওভার শিল্পী হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও, অভিনয়ে আনুষ্ঠানিক অভিষেক ঘটে শাহরিয়ার রহমান পরিচালিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “Nature and Us”–এর মাধ্যমে।
ক্যামেরার সামনে এটি ছিল তাঁর একেবারেই নতুন পদক্ষেপ, কিন্তু প্রথম কাজেই তিনি চমকে দেন দর্শক ও নির্মাতাদের। অভিষেকের সেই চলচ্চিত্রই নির্বাচিত হয় CinemaKing International Film Festival–এ এবং একই সঙ্গে জায়গা করে নেয় Bogura International Film Festival (BIFF)–এ, যেখানে Modhuban Cineplex–এ প্রদর্শিত হবে আগামী ৮–১০ জানুয়ারি।
অভিনয়ে তাঁর স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এবং সংবেদনশীল সংলাপ পরিবেশনার দক্ষতা জানিয়ে দেয়—এই তরুণ সামনে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সামর্থ্য রাখেন।
অভিষেকের পরপরই তিনি কাজ করেন দ্বিতীয় চলচ্চিত্র “Lens of Life”–এ, যা শাহরিয়ার রহমানের পরিচালনা ও ফারদিন রাফির প্রযোজনায় নির্মিত।
এই চলচ্চিত্রটি ইরফানের ক্যারিয়ারে আরও বড় সাফল্য নিয়ে আসে; প্রায় ১,৫০০ চলচ্চিত্রের ভিড়ে মাত্র ১৩০টি নির্বাচিত কাজের মধ্যে এটি জায়গা পায় Camera Zizanio International Film Festival (Greece)–এ এবং যুব ক্যাটেগরিতে তালিকার ২ নম্বরে অবস্থান করে।
গ্রিসের Pyrgos–এ ২৯ নভেম্বর চলচ্চিত্রটির প্রদর্শনী হবে। পাশাপাশি “Lens of Life” নির্বাচিত হয়েছে যুক্তরাজ্যের Short Spotlight Film Festival–এও, যার প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ইংল্যান্ডের Midlands Arts Centre–এ।
অভিনয়ে অভিষেক হওয়া মাত্রই আন্তর্জাতিক পর্দায় নিজের কাজ দেখতে পাওয়া যে কোনো শিল্পীর জন্যই বিশেষ অর্জন, এবং ইরফান রহমানের জন্য এটি ক্যারিয়ারের শুরুতেই বড় এক স্বীকৃতি হিসেবে ধরা দিচ্ছে।
ভয়েস-ওভার থেকে স্ক্রিন-অ্যাক্টিং—এই দুই জগতের মধ্যকার রূপান্তর তিনি করেছেন পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং আত্মবিশ্বাসের শক্তিতে। প্রথম চলচ্চিত্র থেকেই তাঁর অভিনীতে যে পরিপক্বতা দেখা গেছে, তা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে। বাংলাদেশের তরুণদের জন্য তাঁর এই অর্জন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার, কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন—সুযোগ এলে নিজের প্রথম পদক্ষেপই ভবিষ্যতের দরজা খুলে দিতে।